
রাঙামাটি প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ : রাঙামাটিতে এক বিরল এবং অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্যের জন্ম দিল পার্বত্য চট্টগ্রাম ওলামা পরিষদ আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশ। বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করল—পাহাড়ের মানুষ এখনো ভ্রাতৃত্ব, সম্মান এবং শান্তির বাঁধনে বাঁধা।
১৩ সম্প্রদায়ের মিলনমেলা
সমাবেশে মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ প্রায় ১৩টি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা, প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হন। অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক রঙিন প্রাঙ্গণে। বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এমন এক ভূখণ্ড যেখানে বৈচিত্র্যের মাঝেও মানুষ পরস্পরের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে সম্মান করে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই মানবিক সহাবস্থানই আজকের বাংলাদেশকে আরও সুন্দরভাবে পরিচিত করে বিশ্বের কাছে।
“ধর্ম যার যার, দেশ সবার”—উপদেষ্টার বার্তা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,
“ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, কিন্তু এই দেশ সবার। শান্তি স্থায়ী করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সম্প্রীতি সারা দেশের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ।
ধর্ম বিভেদ নয়, শেখায় মানবতা
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাদেক আহমেদ বলেন,
“ধর্ম কখনো মানুষকে আলাদা করতে শেখায় না। এখানে শতাব্দী ধরে একসঙ্গে বাস করা পাহাড়ি ও বাঙালিরা সেটাই প্রমাণ করেছে।”
পাহাড়ের মতোই বিস্তৃত সহাবস্থান
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিব উল্লাহ মারুফ জানান,
“এই জেলার নদী, পাহাড় আর মানুষের হৃদয়ের স্রোত একই সাথে বয়ে চলে—শান্তি ও শ্রদ্ধার স্রোত।”
জেলা পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক স্থিতি ও নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বার্তা
সমাবেশের সভাপতি মাওলানা হাজী শরীয়ত উল্লাহ বলেন,
“আমরা চাই আগামী প্রজন্ম এই সম্প্রীতির ধারাকে শুধু দেখুক না, হৃদয়ে ধারণ করুক।”
সভাপতির আহ্বান—এই মানবিক মেলবন্ধন যেন শুধুই অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
শেষ কথা
বিভিন্ন মত, বিভিন্ন পরিধানের মানুষ; কেউ টুপি পরে এসেছে, কেউ গেরুয়া চাদর, কেউবা ক্রুশ বুকে ঝুলিয়ে—কিন্তু সবার চোখে ছিল একটাই বার্তা: “আমরা একসাথে থাকব, শান্তিতে থাকব।”
এই সমাবেশ প্রমাণ করল, পাহাড় এখনো শেখাতে পারে—ভিন্নতা থাকলেও ভ্রাতৃত্ব সম্ভব, যদি থাকে মনুষ্যত্ব।



