২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও আকাশসীমা বন্ধ: শাহজালাল বিমানবন্দরে আজ আরও ৩৩ ফ্লাইট বাতিল, সপ্তাহে মোট ২৪৫টিরও বেশি!

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র নিরাপত্তা সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা) বিমান চলাচলের ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিঘ্ন আজ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে—আজ একাই ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এর সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাওসার মাহমুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান—এই সাতটি দেশের আকাশসীমা নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে নয়টি বিমান সংস্থা আজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয়ই রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, যারা আজ ৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। শারজাহভিত্তিক এয়ার এরাবিয়া ৬টি ফ্লাইট গ্রাউন্ডেড করেছে, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও কুয়েত এয়ারওয়েজ প্রত্যেকে ৪টি করে, জাজিরা এয়ারওয়েজ ৪টি, ফ্লাইদুবাই ও গালফ এয়ার প্রত্যেকে ২টি করে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ২টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এই সব মিলিয়ে আজকের বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩-এ।

এই সংকট কেবল আজকের নয়—এটি এক সপ্তাহ ধরে চলমান। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ২৪৫টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দিনভিত্তিক পরিসংখ্যান: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৬টি। এই ধারাবাহিক বাতিলকরণের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ৫০ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিক এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার। তারা দেশে ফিরতে বা পরিবারের কাছে যেতে পারছেন না, যা তাদের মানসিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, উমরাহ যাত্রী এবং পরিবারের সদস্যরাও উল্লেখযোগ্য অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। রেমিট্যান্স-নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পুনঃনির্ধারণ, বিকল্প রুট বা ফেরতের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহক সেবা দলগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সময়সীমা অনিশ্চিত। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে—উপসাগরীয় গন্তব্যে যাওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নিন। বিমানবন্দরে না গিয়ে অনলাইন বা ফোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো যাবে।

এই সংকট বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের দুর্বলতা ও নির্ভরশীলতা উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প রুট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জরুরি পরিকল্পনা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যাত্রীরা এখন অপেক্ষায়—কবে এই অচলাবস্থার অবসান হবে এবং আকাশপথ আবার উন্মুক্ত হবে।

Read Previous

জিসিসিতে ২৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিমান সংস্থা ও পর্যটন খাতে ব্যাপক প্রভাব

Read Next

খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ২০০৬ ব্যাচের ইফতার মাহফিল: “বন্ধুত্বের বন্ধনে ২০ বছর” স্লোগানে মিলনমেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular