ভোটের উৎসবে ঘরমুখী ঢল: ঢাকা থেকে লাখো মানুষের গ্রামযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : রাজধানী ঢাকা যেন হঠাৎ করেই নীরব হয়ে গেছে। ব্যস্ত রাস্তায় স্বাভাবিক যানজটের বদলে দেখা যাচ্ছে খালি-খালি প্রান্তর। দোকানপাট বন্ধ, অফিসপাড়া ফাঁকা, শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে কাজ থেমে গেছে। কারণ একটাই—লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। আগামীকালের জাতীয় নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য এই অভূতপূর্ব গ্রামমুখী যাত্রা চলছে।

এই যাত্রাকে অনেকে ‘ভোট উৎসব’ বলে অভিহিত করছেন। কমলাপুর রেল স্টেশন, গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দিনভর উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের ছাদে, বাসের করিডোরে, লঞ্চের ডেকে—যেখানে যেভাবে জায়গা পাচ্ছেন, সেভাবেই মানুষ বাড়ি ফিরছেন। গার্মেন্টস শ্রমিক, রিকশাচালক, দোকান কর্মচারী, ছোট-বড় ব্যবসায়ী—সবাই এই যাত্রায় শামিল।

এক গার্মেন্টস শ্রমিক রুবেল হোসেন বলেন, “বছরের পর বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার সুযোগ পেয়েছি। কষ্ট যাই হোক, বাড়ি গিয়ে ভোট দেব। এটা আমার অধিকার, আমার দায়িত্ব।” অনেক তরুণ-তরুণীও একই কথা বলছেন। তাদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থী বেছে নেওয়ার নয়—দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একটা বড় সুযোগ।

পরিবহন ব্যবস্থায় চরম চাপ পড়েছে। দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চের টিকিট পাওয়া দুষ্কর। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে গেছে। মহাসড়কে তীব্র যানজট। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঘরমুখো যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবুও যাত্রীরা হতাশ নন। অনেকে বলছেন, “ভোটের জন্য এতটুকু কষ্ট তো সইতেই হবে।”

নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ছুটির কারণে ঢাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির। সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ। শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস—সবকিছুতেই কমতি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ছুটি ঘোষণা করায় ছাত্র-ছাত্রীরাও গ্রামে ফিরেছেন। ফলে রাজধানী যেন এক অস্থায়ী শান্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এই নির্বাচনের তাৎপর্য অনেক বেশি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো এমন একটি নির্বাচন যেখানে ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সাংবিধানিক গণভোটেও অংশ নেবেন। নতুন সংবিধানের খসড়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সাংবিধানিক সংস্কার—এসব বিষয়ে জনমত যাচাই হবে। মানুষ মনে করছেন, এই ভোটের মাধ্যমে দেশ একটি নতুন, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পথে এগোবে।

যাত্রাপথে যত কষ্টই হোক, কর্মজীবী মানুষের এই বিশাল গ্রামমুখী ঢল একটি বার্তা দিচ্ছে—ভোটাধিকারের প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষা অটুট। এই উৎসবমুখর যাত্রা শুধু একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নয়, বরং একটি জাতির নতুন স্বপ্ন ও আশার প্রতিফলন।

প্রতিবেদক : ইসলাম রাইসুল

Read Previous

নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সম্ভাব্য পরিবর্তন: একটি গভীর বিশ্লেষণ

Read Next

সিংগাইরের ফুলের রাজ্য: বসন্তের উৎসবে পর্যটকদের জন্য এক অপরূপ আকর্ষণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular