
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : নেপালের ভদ্রপুর বিমানবন্দরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি সম্ভাব্য বড় বিমান দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো গেছে। কাঠমান্ডু থেকে ছেড়ে আসা বুদ্ধ এয়ারের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অবতরণের সময় রানওয়ে অতিক্রম করে বিমানবন্দর সংলগ্ন ঘাসযুক্ত এলাকায় গিয়ে থেমে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিমানে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুদ্ধ এয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ফ্লাইটটি ছিল ৯০১ নম্বর ফ্লাইট। এতে ৫১ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফ্লাইটটি নেপালের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি রাত ৯টার কিছু পর ভদ্রপুর বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রাত ৯টা ৮ মিনিটের দিকে ভদ্রপুর বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করে। অবতরণের পর হঠাৎ করেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে রানওয়ের শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে ফেলে। পরে এটি বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে থাকা একটি ঘাসে ঢাকা এলাকায় গিয়ে থেমে যায়। বিমানটির চালক ছিলেন শৈলেশ লিম্বু। কী কারণে বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে গেল, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
ভদ্রপুর বিমানবন্দর, যা চন্দ্রগড়ি বিমানবন্দর নামেও পরিচিত, নেপালের কোশি প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরটি মূলত ঝাপা ও ইলাম জেলার যাত্রীদের আকাশপথে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন কাঠমান্ডুর সঙ্গে এখানকার একাধিক ফ্লাইট চলাচল করে, যা স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঝাপার প্রধান জেলা কর্মকর্তা শিবরাম গেলাল গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি। তিনি বলেন, যাত্রী ও ক্রু সবাই নিরাপদে আছেন এবং এটি নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর। বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে গেলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুদ্ধ এয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানের অবস্থা যাচাই করার জন্য কাঠমান্ডু থেকে একটি কারিগরি দল ভদ্রপুরে পাঠানো হয়েছে। দলটি বিমানের ব্রেকিং সিস্টেম, ল্যান্ডিং গিয়ার, চাকা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখবে। পূর্ণাঙ্গ কারিগরি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি উড্ডয়নের অনুমতি পাবে না বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, এই ফ্লাইটটি ছিল ওই সেক্টরের দিনের শেষ ফ্লাইট। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিমানটির সেদিন রাতেই ভদ্রপুর বিমানবন্দরে অবস্থান করার কথা ছিল এবং পরদিন সকালে প্রথম ফ্লাইট হিসেবে কাঠমান্ডুতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ফলে যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
এই ঘটনার পর নেপালের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ভূপ্রকৃতি পাহাড়ি হওয়ায় এবং অনেক বিমানবন্দরের রানওয়ে তুলনামূলক ছোট হওয়ায় অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় ঝুঁকি থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনও অনেক সময় এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তবে ভদ্রপুরের এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ এবং যাত্রীদের নিরাপদে রাখার বিষয়টি প্রশংসিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও পাইলটের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুদ্ধ এয়ার কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।



