
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বগুড়া বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা এই প্রকল্পে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বিমানবন্দরটি সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
মন্ত্রীদের এই যৌথ সফরকে কেন্দ্র করে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীদের নির্দেশনা অনুসারে পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
বগুড়া শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানবন্দর বর্তমানে স্বল্পদৈর্ঘ্যের স্টলপোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রধানত বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে নিয়োজিত। বর্তমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪,৭০০ ফুট, যা এটিআর-৭২ বিমান চলাচলের জন্য ৬,০০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৯ হাজার ফুট এবং পরবর্তীতে ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করে বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। মোট প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৯০০ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
এছাড়া বগুড়ায় একটি ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বেবিচক বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মহাপরিকল্পনা ও ডিজাইনের জন্য বুয়েটকে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
তবে প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জমি অধিগ্রহণ। নতুন করে প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়াসহ আশপাশের জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্যের দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানি, নতুন শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে বগুড়ায় আকাশপথে যাতায়াতের সময় নেমে আসবে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বগুড়া বিমানবন্দর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



