
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ভারতের কেরালায় বসবাসরত দুই বোন নাগরিকত্ব সংকটে পড়ে কার্যত রাষ্ট্রবিহীন হয়ে গেছেন। পাকিস্তানের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করার প্রক্রিয়া শুরু করলেও তারা এখনও ভারতের নাগরিকত্ব পাননি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান দূতাবাসে ২০১৭ সালে পাসপোর্ট জমা দিলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের সনদপত্র তারা হাতে পাননি। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী তখনও তাদের বয়স ২১ বছর হয়নি, তাই ওই নথি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও দূতাবাস থেকে আর কোনও সনদপত্র দেওয়া হয়নি।
তাদের মা রাশিদা বানু বলেন, নথি না থাকায় মেয়েরা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারছে না। অথচ তিনিই এবং তার ছেলে ইতোমধ্যেই ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ফলে পরিবারের দুই সদস্য নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও দুই বোন আজও ‘অপরিচিতের মতো’ দিন কাটাচ্ছেন।
আদালতের দ্বারস্থ হলেও সমাধান আসেনি
২০১৮ সালে পাকিস্তান দূতাবাস একটি নথি দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল—তাদের নাগরিকত্ব ভারত দিলে পাকিস্তানের আপত্তি থাকবে না। তবে ভারত সরকার সেই নথিকে আনুষ্ঠানিক সনদ হিসেবে গ্রহণ করেনি।
এই অবস্থায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। প্রথমে কেরালা হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দিলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপিলে রায় পরিবর্তিত হয়। নতুন রায়ে বলা হয়, নাগরিকত্ব প্রদানের একমাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ভারতীয় রাষ্ট্রেরই হাতে।
বর্তমানে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সমাধান কবে মিলবে তা অনিশ্চিত।
সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সংকট
নাগরিকত্বহীনতার কারণে সাধারণ জীবনও জটিল হয়ে উঠেছে তাদের জন্য। স্কুলে ভর্তি, মোবাইল সংযোগ নেওয়া, এমনকি চিকিৎসার মতো ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন তারা। আধার কার্ড থাকলেও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না থাকায় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই বোন।
পরিবার জানায়, এক বোনের স্বামীকে বিদেশের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরতে হয়েছে। অন্যদিকে নাতির চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে।
আইনজীবী এম শশীধরণ বলেন, “তাদের জীবন এখন মাঝপথে আটকে গেছে। পাকিস্তানে ফেরা সম্ভব নয়, আবার ভারতের নাগরিকত্বও তারা পাচ্ছেন না।”
প্রেক্ষাপট
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ভারত-পাকিস্তান অভিবাসনের নানা জটিলতা থেকে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্ম হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নথি যাচাইয়ের কড়াকড়ি বাড়ায় হাজার হাজার মানুষের আবেদন ঝুলে আছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিকত্বের আবেদন ভারতের কাছে অমীমাংসিত ছিল।
কেরালার এই দুই বোন সেই দীর্ঘ তালিকার অংশ হয়ে আজও অপেক্ষায় আছেন—একটি দেশের পরিচয়ের জন্য।
সূত্র: বিবিসি বাংলা



