
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক :জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এ উপস্থাপন করা হবে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে শুনানি সকালেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগের দিন প্রথম দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রসিকিউটর তাঁর যুক্তিতে আওয়ামী লীগের ১৯৭২ সালের শাসনকাল, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে নির্বিচার হত্যার অভিযোগ তুলে ধরে বলেন—এই ধারাবাহিক দমন-পীড়নের রাজনীতিরই দীর্ঘস্থায়ী রূপ ছিল শেখ হাসিনার শাসনামল। তাঁর অভিযোগ, গুম, ক্রসফায়ার, বিচারবিভাগকে দুর্বল করা এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় প্রসিকিউশন।
গুমের ঘটনায় সেনাসদস্যদের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাজুল ইসলাম জানান—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে শুনানির সময় বিচারকদের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে স্পষ্ট বিধান প্রয়োজন বলে মত দেয় ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২ এ আজ অনুষ্ঠিত হবে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের ১০ম দিন। গত বুধবার এই মামলার ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষ হয়। মামলার আরও দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী।
আজকের দুই ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের নজর রয়েছে।



