
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিশুসহ বহু হতাহতের ঘটনায় ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনায় সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে শুধু তদন্ত নয়, নিহত ও আহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা, এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
রিটের মূল বিষয়বস্তু:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী এ আর রায়হান।
রিটে যে বিষয়গুলোতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—
- বিচার বিভাগীয় তদন্ত:
বিমান দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হোক। সেইসঙ্গে বিমানবাহিনীর অধীনে বর্তমানে কতটি ত্রুটিপূর্ণ বিমান রয়েছে এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম কীভাবে চলছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। - উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা:
রাজধানীসহ দেশের সকল জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান ও প্রশিক্ষণ বিমানের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করার নির্দেশনার আবেদন জানানো হয়েছে। - আন্তর্জাতিক চিকিৎসা:
মাইলস্টোন স্কুলের আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। - ক্ষতিপূরণ:
নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ৫ কোটি টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে। - বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন:
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন, উন্নতমানের বিমান ক্রয়ের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনবহুল এলাকায় উড্ডয়ন নিষিদ্ধে গুরুত্ব
রিটে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল জনবহুল এলাকায় যুদ্ধবিমান বা প্রশিক্ষণ বিমানের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করতে হবে। এটি জননিরাপত্তা ও শিশুর জীবন রক্ষার জন্য জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়।
মানবিক আবেদন ও জাতীয় করুণ পরিস্থিতি
উত্তরার এই দুর্ঘটনায় যেভাবে নিরীহ শিক্ষার্থীরা নিহত হয়েছে, তা পুরো জাতিকে হতবাক ও শোকাহত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।



