হর্নবিল উৎসবে তিন দিনে দর্শকের স্রোত — ছুঁলো ৬০ হাজারের মাইলফলক

নাগাল্যান্ড হর্ণবিল উৎসব

নাগাল্যান্ড হর্ণবিল উৎসব, ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : নাগাল্যান্ডের কিসামা হেরিটেজ ভিলেজে চলছে ২৬তম হর্নবিল উৎসব, আর শুরু থেকেই চোখে পড়ার মতো ভিড় জমিয়েছে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা। ২ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম তিন দিনেই দর্শকসংখ্যা পেরিয়েছে ৬০ হাজার। এমন ভিড় উৎসব আয়োজকদের প্রত্যাশাকেও অনেক দূর ছাপিয়ে গেছে। তারা বলছেন, এ ধারায় উৎসব শেষ হতে হতে নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

২ ডিসেম্বর, উৎসবের দ্বিতীয় দিনে, কিসামায় আসে ১৮,০১০ দর্শক। তাদের মধ্যে বিদেশি ছিলেন ৩৪১ জন, দেশীয় পর্যটক ৪,৮৯৩ জন এবং বাকিরা স্থানীয় বাসিন্দা। ঐদিন বিভিন্ন উপজাতির ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সঙ্গীত পরিবেশনা এবং লোকজ খেলা দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগা সংস্কৃতির প্রাণভরা পরিবেশে রঙিন পোশাক, ঢোল-বাদ্য আর কাঠের কারুকাজ যেন উৎসবের মাঠে আলাদা আবহ তৈরি করে দেয়।

৩ ডিসেম্বর হর্নবিল উৎসব আরও সরব রূপ নেয়। এদিন দর্শক ছিল ২০ হাজারেরও বেশি। বিদেশি পর্যটকের ভিড় নজর কাড়ে সবচেয়ে বেশি। কিসামার প্রতিটি কুঁড়েঘর, মঞ্চ এবং প্রদর্শনী এলাকাজুড়ে ছিল কৌতূহলী দৃষ্টি। দর্শনার্থীরা উপজাতীয় যুদ্ধনৃত্য, ফোক মিউজিক, বেত-বাঁশের হস্তশিল্প আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে দিনভর ব্যস্ত ছিলেন। অনেকের মতে, হর্নবিল উৎসব তাদের কাছে শুধুই একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং পুরো একটি অভিজ্ঞতার ভ্রমণ।

৪ ডিসেম্বর উৎসব মাঠে ভিড় আরও ঘন হয়ে ওঠে। এদিন দর্শকসংখ্যা ছুঁয়ে যায় ২২ হাজারের উপরে। উৎসবের রুটিন তালিকায় ছিল লোকজ প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শনী, দিনের বেলায় উপজাতীয় নাচ-গান এবং সন্ধ্যায় রক শো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে দিনভর উৎসব উপভোগ করেছেন। তিন দিনের মোট আগমনসংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসন ও আয়োজকরা উৎসাহিত। তারা জানাচ্ছেন, এ বছর দর্শকের আগমন হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

হর্নবিল উৎসবকে বলা হয় ‘ফেস্টিভ্যাল অফ ফেস্টিভ্যালস’, আর তার কারণও স্পষ্ট। নাগাল্যান্ডের ১৭টি উপজাতির সংস্কৃতি এক মঞ্চে তুলে ধরে এই উৎসব। ঐতিহ্যবাহী নাচ, উপজাতীয় পোশাক, লোকসংগীত, বেত-বাঁশের হস্তশিল্প, যুদ্ধনৃত্য থেকে খাবারের স্বাদ—সবকিছু মিলিয়ে হর্নবিল উৎসব এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দেয়। শুধু ভারত নয়, বিদেশ থেকেও আগত দর্শকরা নাগা সংস্কৃতির গভীরতা ও বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হন।

পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও উৎসবটির প্রভাব বিস্তৃত। হোমস্টে, হোটেল, স্থানীয় খাবারের দোকান, পরিবহন, এবং হস্তশিল্প ব্যবসায়ীদের আয় তিন দিনের মধ্যেই বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। অনেক শিল্পী বলছেন, তাদের তৈরি পণ্য বিক্রি হওয়া এই সময়েই সবচেয়ে বেশি হয়। উৎসবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পাশাপাশি নাগাল্যান্ডের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

এ বছরের শুরুতেই যেভাবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন পুরো উৎসব শেষ হতে হতে দর্শকসংখ্যা দুই লাখ ছুঁতে পারে। অর্থাৎ হর্নবিল উৎসব শুধু নাগাল্যান্ডের নয়, পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ড হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।

Read Previous

একক টিকিটে ৪,৪০০ গন্তব্য—বাংলাদেশ পেল বৈশ্বিক সংযোগের নতুন মানচিত্র

Read Next

ইন্ডিগোর ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল: চারদিন ধরে অচলাবস্থা, যাত্রীদের ক্ষোভ চরমে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular