২৫/০৪/২০২৬
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কের বুকে বৈশাখী রঙ: সোনালুর হলুদে বদলে গেছে কুমিল্লার পথচিত্র

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বৈশাখের দাবদাহে যখন চারপাশ রুক্ষ আর ক্লান্ত, তখন কুমিল্লা অংশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন হঠাৎ করেই রঙ বদলে ফেলেছে। পিচঢালা ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে আর পাশে সারি সারি সোনালু গাছে ফুটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ ফুল চোখে পড়তেই গতি কমিয়ে দেয় পথচারী আর চালকদের। রোদ আর ধুলোর মাঝেও এই হলুদ ঝলক যেন এক ধরনের নীরব অভ্যর্থনা জানাচ্ছে সবাইকে।

মহাসড়কের কোটবাড়ী থেকে আলেখারচর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন সোনালুর আধিপত্য। বিভাজকের ওপর ঝুলে থাকা ফুলের থোকাগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কেউ যেন যত্ন করে হলুদের গালিচা পেতে রেখেছে। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো কখনো ছায়া, কখনো প্রশান্তির অনুভূতি এনে দিচ্ছে। ব্যস্ততম এই সড়কাংশে এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।

শুধু কোটবাড়ী নয়, চান্দিনা, দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এলাকার বিভিন্ন অংশেও সোনালুর উপস্থিতি নজর কাড়ছে। বিশেষ করে মিয়ার বাজার এলাকায় ফুলের ঘনত্ব বেশি। দুপুরের তীব্র আলোয় কিংবা বিকেলের নরম রোদে ফুলগুলো এমনভাবে ঝলমল করে যে চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকেও চোখ আটকে যায়।

এই দৃশ্য দেখে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন। স্থানীয় এক কলেজছাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, প্রতিদিন পড়াশোনার পথে এই ফুলগুলো দেখলে মনটা হালকা হয়ে যায়। ধোঁয়া আর শব্দের ভিড়ে এমন রঙিন দৃশ্য চোখের জন্য আরাম। আবার এক বাসচালক রফিকুল ইসলাম জানান, সারাদিন রোদের মধ্যে গাড়ি চালালেও মাঝখানে এই ফুলের সারি দেখলে ক্লান্তি কিছুটা কমে যায়।

যাত্রীরাও একই কথা বলছেন। ঢাকাগামী এক যাত্রী ইমরান হোসেনের মতে, একঘেয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে এ ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানসিক চাপ কমায়। তাঁর ভাষায়, সড়কের বিভাজকে গাছ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, মানুষের মন ভালো রাখার জন্যও দরকার।

উদ্ভিদবিদদের মতে, সোনালু মূলত গ্রীষ্মপ্রধান বৃক্ষ। বসন্তে পাতা ঝরিয়ে দেওয়ার পর বৈশাখে নতুন পাতার সঙ্গে সঙ্গে হলুদ ফুলে ভরে ওঠে গাছ। পত্রশূন্য ডালে ঝুলে থাকা ফুলের এই দৃশ্য প্রকৃতিতে খুব বেশি দেখা যায় না। মাঝারি আকৃতির এই গাছ সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু ঔষধি গুণও বহন করে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কের বিভাজকে সোনালু লাগানোর উদ্দেশ্য ছিল সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি রাতের বেলায় বিপরীত দিকের গাড়ির হেডলাইটের ঝলক কমানো। নিয়মিত পরিচর্যার কারণেই গাছগুলো এখন ভালোভাবে ফুল দিচ্ছে।

একসময় গ্রামবাংলায় পরিচিত এই গাছ আজ শহুরে মহাসড়কে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের মাঝে সোনালুর এই হলুদ উপস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে—কংক্রিট আর যান্ত্রিকতার মধ্যেও প্রকৃতি চাইলে মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে, অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও।

Read Previous

পূর্বাচলকে ঘিরে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা: রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক নগর সুবিধা

Read Next

২৬ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ই-ভিসা পেমেন্ট সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular