
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বরিশাল জেলায় রয়েছে এক অপরূপ গ্রাম—শাতলা। নান্দনিক জলবন, পদ্মার শাখা নদী এবং বিলের মাঝখানে বিস্তৃত হাজারো বেলাফুলে ঘেরা এই গ্রাম এখন পর্যটকদের জন্য এক জনপ্রিয় গন্তব্যে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শাতলা গ্রামে ফোটে লাখো বেলাফুল, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
বেলাফুলের সৌন্দর্যে মোহিত শাতলা
শাতলা গ্রামের মূল আকর্ষণ হলো এর বিস্তৃত বিলভূমি, যেখানে বর্ষা এলে প্রাকৃতিকভাবেই ফোটে সাদা-হালকা বেগুনি রঙের বেলাফুল। স্থানীয়ভাবে একে “শাপলা ফুল” বলা হলেও এর বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali। ফুলগুলো পানির ওপর ভেসে থাকা পাতার মাঝে ফোটে, যা পুরো বিলকে পরিণত করে এক দৃষ্টিনন্দন ফুলের রাজ্যে।

কখন যাবেন?
শাতলা ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। এই সময়টাতে বিল জলে পরিপূর্ণ থাকে এবং হাজার হাজার বেলাফুল ফুটে থাকে, যা এক স্বপ্নময় দৃশ্য তৈরি করে। ভোরবেলা বা সূর্যাস্তের আগে আগে ভ্রমণ করলে বেলাফুলের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
কিভাবে যাবেন?
- ঢাকা থেকে বরিশাল: বাস, লঞ্চ কিংবা বিমানে বরিশাল পৌঁছানো যায়।
- বরিশাল থেকে শাতলা: বরিশাল শহর থেকে বানারীপাড়া উপজেলার দিকে রওনা দিতে হবে। সেখান থেকে ইজিবাইক বা ভাড়াকৃত অটোতে শাতলা গ্রামে যাওয়া যায়।
- অনেক পর্যটক বরিশাল শহর থেকে সরাসরি রিজার্ভ গাড়িতে শাতলা ঘুরে আবার ফিরে আসেন দিনের মধ্যেই।
নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
শাতলার বিল ঘুরে দেখতে স্থানীয়রা নৌকা ভাড়া দিয়ে থাকেন। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার নৌকা ভ্রমণে ফুলের মাঝে দিয়ে চলার অভিজ্ঞতা যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে অভিভূত করবে।
পর্যটকদের জন্য কিছু পরামর্শ:
- বেলাফুল ছিঁড়বেন না—ফুলগুলোই এই এলাকার সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যের অংশ।
- স্থানীয়দের সঙ্গে ভদ্রভাবে ব্যবহার করুন এবং তাদের জীবিকা রক্ষায় সহনশীল থাকুন।
- পরিবেশ দূষণ করবেন না—প্লাস্টিক বা পলিথিন ফেলে না দিয়ে নিজে সঙ্গে নিয়ে যান।
- ছবি তোলার সময় পানিতে নেমে ফুলের ক্ষতি না করার অনুরোধ রইল।
স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি
শাতলার মানুষজন বেশ অতিথিপরায়ণ। তাদের জীবিকা মূলত কৃষি ও মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। পর্যটকদের আগমনে তারা এখন নৌকা ভাড়া, চা-নাস্তার দোকান বা গাইড হিসেবে কাজ করে অতিরিক্ত আয় করছেন।



