
নিজস্ব প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ : টাঙ্গাইলের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্যের গলায় রশি বেঁধে মেলার স্টল তৈরির ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা শুধু জাতীয় বীরদের প্রতি অসম্মানই নয়, টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পর্যটন সচেতন মহল।
টাঙ্গাইল পৌর উদ্যান শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় বিনোদন ও পর্যটন স্থান। এখানে সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য ও শহীদ স্মৃতিসৌধসহ সুন্দর সবুজ পরিবেশ, হাঁটার পথ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন শত শত স্থানীয় ও বহিরাগত পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী যুবক-যুবতী, শিক্ষার্থী এবং ইতিহাস অনুরাগীরা এই উদ্যানকে টাঙ্গাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
বর্তমানে বিসিক আয়োজিত শিল্প ও কুটিরশিল্প মেলা চলছে এই উদ্যানে। মেলার স্টল নির্মাণের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার রশীদ, সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামাল, নায়েক সুবেদার মতলব উদ্দিন আহমেদ ও ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখের ভাস্কর্যের গলায় রশি বেঁধে সাপোর্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অনেক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, “একটি পর্যটন কেন্দ্রে এ ধরনের অসম্মানজনক কাজ করলে দর্শনার্থীরা আকৃষ্ট হবেন না বরং বিরক্ত হয়ে ফিরে যাবেন।” তারা মনে করেন, ভাস্কর্য ও স্মৃতিসৌধকে ঘিরে সুন্দর পরিবেশ ও সম্মানজনক ব্যবস্থাপনা থাকলে টাঙ্গাইলের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারত।
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঐতিহাসিক স্থান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে টাঙ্গাইলকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা জেলার সামগ্রিক পর্যটন ইমেজকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভা ও বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ভাস্কর্যগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মেলার স্টলগুলো সরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পর্যটনপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা।
টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানকে একটি আকর্ষণীয়, সম্মানজনক ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
প্রতিবেদক : সাদীয়া জামান


