
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটনঘেঁষা এলাকা। শনিবার দুপুরে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ ঝড়ে সড়ক, বিদ্যুৎ লাইন ও বসতবাড়ির ওপর অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে যায়। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরতে আসা পর্যটকরাও পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
ঝড়ের সময় কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। রতুলি-কাঠালতলী অংশে সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর বড়লেখা ফায়ার স্টেশনের দমকল বাহিনী গাছ অপসারণ করলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এই সড়কটি পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আটকে পড়া ভ্রমণকারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ে হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে পড়ে বাড়িঘর, রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপর। রতুলি বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। এদিকে উত্তর ও দক্ষিণ শাহবাজপুর, দক্ষিণভাগ উত্তর-দক্ষিণ, তালিমপুর এবং বড়লেখা সদর ইউনিয়নে দুই শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোবারথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ওপর গাছ পড়ে অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে পর্যটন স্পটগুলোর হোটেল, রিসোর্ট ও খাবারের দোকানগুলো কার্যক্রম সীমিত রাখতে বাধ্য হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, গাছ অপসারণ ও লাইনের মেরামত শেষে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত অবকাঠামো মেরামত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে বড়লেখার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে আবারও স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরবেন পর্যটকরা।


