
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আবার প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে। গত কয়েকদিনের ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের বিরতির পর সাপ্তাহিক ছুটিতে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতে। নীল জলরাশি আর সোনালি বালুচরে এখন পর্যটকদের উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঢেউ।
সৈকতজুড়ে বালুতে খেলা, সমুদ্রস্নান, ঘোড়ায় চড়া, জেটস্কি ও কিটকটে আড্ডায় মেতে উঠেছেন পর্যটকরা। মিরপুর থেকে আসা হাবিবুর রহমানের মতে, প্রথমবার ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। নরসিংদী থেকে আসা পিয়াল রহমান বলেন, পরিবার নিয়ে এসে অসাধারণ সময় কাটছে। কুমিল্লার শাহেদ আলমের কাছে কক্সবাজার মানসিক শান্তির জায়গা, যেখানে সমুদ্রের বাতাস সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।
তবে আনন্দের মাঝে সতর্কতার বার্তাও স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগর এখনও উত্তাল, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থা সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করে দিয়েছে। লাইফগার্ড রুহুল আমিন জানান, পানির স্রোত বেশি থাকায় কেউ যেন হাঁটু পানির বেশি গভীরে না যান এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে সমুদ্রস্নান না করেন। মাইকিং করে বারবার সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে পর্যটকদের আকর্ষণে হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে আকর্ষণীয় ছাড়। অনেক প্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছে। তারকা হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী জানান, লোডশেডিং কমে আসায় এবং আবহাওয়া উন্নতির কারণে বুকিং বেড়েছে। পহেলা মে ও শুক্রবারের ছুটিতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং পুরো মাসজুড়ে পর্যটক আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার এখন আনন্দ আর সতর্কতার মেলবন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে। পর্যটকদের উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সৈকতে সময় কাটানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


