
বিশেষ প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ : আধুনিক নগরায়ণের ছোঁয়ায় পুরোনো স্থাপনাগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে বরিশাল নগরীতে। তবে রাজা বাহাদুর সড়কের শান্ত পরিবেশে প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ‘চান বাংলো’ এখনও অটুট মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। কাঠের তৈরি দোতলা এই ভবনটি শুধু স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, বরং ব্রিটিশ আমল থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বরিশালের গৌরবময় ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।
সবুজ গাছপালা ও শ্বেতপদ্মে ভরা পুকুর ঘেরা মনোরম পরিবেশে অবস্থিত চান বাংলোর কাঠের দেয়াল, প্রশস্ত বারান্দা ও শৈল্পিক নকশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ভেতরে প্রবেশ করলেই পুরোনো দিনের নীরবতা ও ঐতিহাসিক আবহ অনুভব করা যায়। নগরের কোলাহল থেকে অনেকটা দূরে এই স্থানটি যেন অতীতের স্মৃতিকে আগলে রেখেছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে দক্ষিণাঞ্চলের নদীবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল বরিশাল। সে সময় স্টিমার কোম্পানির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো এই বাংলো। পরবর্তীতে আরএসএম স্টিমার কোম্পানির কার্যালয় হিসেবেও এর গুরুত্ব ছিল। তবে সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে। স্থানীয়দের মতে, ৯ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল এখানে ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা ও বৈঠক পরিচালনা করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ)-এর প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হয়েছে এই ভবন। বর্তমানে এটি বিআইডব্লিউটিএর গেস্ট হাউস হিসেবে কাজ করছে। ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এখানে আসেন অতীতের স্মৃতি অনুভব করতে।
ইতিহাসবিদরা মনে করেন, চান বাংলো বরিশালের নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী এক অমূল্য ঐতিহ্য। সময়ের স্রোতে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা হারিয়ে গেলেও এটি টিকে থাকায় সচেতন নাগরিকরা এর যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্যের স্পর্শ পায়।
প্রতিনিধি: মুস্তাফিজুর রহমান


