
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম খরচে অত্যাধুনিক ও স্বল্প-আক্রমণাত্মক ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে চীনের গুয়াংজু মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতাল। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যবহৃত পদ্ধতিতে শারীরিক আঘাত খুবই কম হয়, ফলে রোগীরা চিকিৎসার পরের দিনই স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কাজকর্ম শুরু করতে পারেন। এটি প্রথাগত ক্যান্সার চিকিৎসার সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে রোগীদের দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ মিডিয়া ক্লাব, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং হাসপাতালের ঢাকা সার্ভিস সেন্টারের যৌথ আয়োজনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ড. উ ওয়েই বলেন, মাঝারি থেকে উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত অনেক বিদেশি রোগী চীনে সফলভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ন্যূনতম শারীরিক ক্ষতির কারণে রোগীরা দ্রুত স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরতে পারেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ইন্টারভেনশনাল থেরাপি, ক্রায়োঅ্যাবলেশন এবং আয়োডিন-১২৫ কণা ইমপ্লান্টেশনের মতো আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে চিকিৎসা প্রদান করে। এর মধ্যে ইন্টারভেনশনাল থেরাপিতে ক্যাথেটারের মাধ্যমে টিউমারের রক্ত সরবরাহ বন্ধ করা হয়, ক্রায়োঅ্যাবলেশনে প্রচণ্ড ঠান্ডায় ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয় এবং আয়োডিন-১২৫ পদ্ধতিতে টিউমারের ভিতরে তেজস্ক্রিয় বীজ স্থাপন করা হয়।
হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট হে লাং বিন জানান, বাংলাদেশি রোগীরা অনলাইনে অথবা ঢাকার সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। সেখানে সার্বক্ষণিক বাংলাভাষী দোভাষীর ব্যবস্থা রয়েছে এবং দেশে ফেরার পরও চীনা চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে ফলোআপ সেবা পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, চীনের কঠোর চিকিৎসা নিয়মকানুন বিদেশি রোগীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করে এবং পশ্চিমা দেশের তুলনায় অনেক কম খরচে বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের মহাসচিব মুজাহিদ শুভ বলেছেন, সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবে।


