
বিমানে বোয়িং
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিমান নির্মাতা বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে একটি বড় আকারের উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এটি বিমানের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা প্রধান অতিথি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও এভিয়েশন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ। বোয়িংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুসারে, বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। উড়োজাহাজগুলোর আনুমানিক তালিকা মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ক্রয়ের মূল লক্ষ্য হলো বিমানের বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক রুট সম্প্রসারণ। ওয়াইড-বডি ড্রিমলাইনারগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দূরপাল্লার রুটে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ৭৩৭ ম্যাক্সগুলো স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনায় সহায়তা করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে গত তিন বছর ধরে চলা বোয়িং ও এয়ারবাসের তীব্র প্রতিযোগিতারও অবসান ঘটছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

