
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন। এটি নির্বাচনের পর তারেক রহমানের যশোর জেলায় প্রথম সরকারি সফর। গত ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।
দিনের কর্মসূচি শুরু হয় বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে শার্শা উপজেলার উলশী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পূরণের প্রতীকী শুরু করলেন। খাল সংলগ্ন স্থানে বেলা সাড়ে ১১টায় উলশী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন, যেখানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান বক্তব্য দেন। জনসভায় তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, খাল খনন কর্মসূচির গুরুত্ব, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে ঢাকায় ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এই সফরকে যশোরবাসী স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে জেলার দ্রুত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উলশী খাল খননের মতো প্রকল্পগুলো কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং যশোরের সেচ সমস্যা অনেকাংশে সমাধান করবে। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে বলে আশা করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের যশোর সফর সরকারের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। জেলাবাসী এখন অপেক্ষায় রয়েছেন এই সফরের ফলাফল কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।


