
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ভিয়েতনামের থান হোয়া প্রদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত হাই তিয়েন বিচে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের হাই তিয়েন সৈকত পর্যটন উৎসব। এই বার্ষিক উৎসবটি শুধু স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেবে না, বরং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে তুলবে এই উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং আধুনিক পর্যটন সুবিধাকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে সন্ধ্যায় হাই তিয়েন বিচ ট্যুরিস্ট এরিয়া স্কোয়ারে, যেখানে উত্তেজনাপূর্ণ শৈল্পিক পরিবেশনা এবং স্বল্প উচ্চতার আতশবাজির ঝলকানি পর্যটকদের মন জয় করে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোয়াং তিয়েন এবং হোয়াং থান কমিউনের গণ কমিটি সম্প্রতি জারি করা সমন্বয় পরিকল্পনা অনুসারে, এবারের উৎসবটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সামনে রেখে আয়োজিত হবে। লক্ষ্য হলো জনগণের সকল স্তরের মধ্যে উদ্দীপনা ও উৎসাহের পরিবেশ তৈরি করা। উৎসবে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া এবং পর্যটনমূলক কার্যক্রমের এক বিচিত্র সমাহার থাকবে, যা স্থানীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে তুলে ধরবে এবং পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করবে। উদ্বোধনী রাতের মূল আকর্ষণ হবে একটি জমকালো শৈল্পিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি আধুনিক আলোকসজ্জা এবং আতশবাজির মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী থাকবে। এটি শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাবে।
উৎসবের বিস্তৃত কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অভিজ্ঞতামূলক কার্যক্রম। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে থাকবে বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পর্কে জ্ঞানীয় প্রতিযোগিতা, যা যুবসমাজকে ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। লোকশিল্প প্রতিযোগিতায় স্থানীয় শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করবেন, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হবে। ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য থাকছে পিকেলবল টুর্নামেন্ট এবং বিনোদনমূলক ভলিবল টুর্নামেন্ট। এছাড়া, এলাকার বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোতে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাভিত্তিক ট্যুর ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হবে, যেখানে পর্যটকরা সরাসরি স্থানীয় জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। এসব কার্যক্রম শুধু বিনোদনই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে হোয়াং তিয়েন এবং হোয়াং থান কমিউনের গণ কমিটিগুলো উৎসব আয়োজক কমিটি গঠন করে সদস্যদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করেছে। তারা তৎপরতার সাথে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। হাই তিয়েন বিচ রিসোর্ট এলাকার বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংস্কার ও নতুন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করছে। রাস্তাঘাট, আবাসন, খাদ্যসেবা এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে যাতে হাজার হাজার পর্যটক স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন। এই প্রস্তুতি শুধু উৎসবকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমকে সফল করার লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে।
হাই তিয়েন সৈকত পর্যটন উৎসব ঐতিহ্যগতভাবে হোয়াং হোয়া জেলার গণ কমিটি কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দ্বি-স্তরীয় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর হোয়াং তিয়েন ও হোয়াং থান পৌরসভা দুটি সমুদ্র পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উৎসবটি ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে সংস্কৃতি ও পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে, স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনা হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হবে।
হাই তিয়েন বিচ তার সোনালি বালুকাময় সৈকত, স্বচ্ছ নীল সমুদ্র এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। এখানে পর্যটকরা শুধু সমুদ্র স্নান বা সূর্যস্নানই করেন না, বরং স্থানীয় লোকজীবন, মৎস্যজীবীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পান। উৎসবের মাধ্যমে এই সৌন্দর্যকে আরও বেশি করে তুলে ধরা হবে। আয়োজকরা আশা করছেন যে, এবারের উৎসবে গত বছরের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক পর্যটক আসবেন, যা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করবে।
উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সাধারণ জনগণ সকলে মিলে এটিকে সফল করতে কাজ করে যাচ্ছেন। পর্যটকদের জন্য এটি হবে এক অনন্য সুযোগ—সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন উপভোগ করার। যারাথান হোয়া প্রদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য হাই তিয়েন সৈকত পর্যটন উৎসব ২০২৬ একটি অবশ্যই দেখার মতো ইভেন্ট। এই উৎসব শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভিয়েতনামের উপকূলীয় পর্যটনের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যায়।
উৎসব চলাকালীন স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। আয়োজকরা সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “আসুন, হাই তিয়েনের সমুদ্রতীরে মিলিত হই এবং একসাথে উদযাপন করি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদকে।”


