
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল সীমিত পরিসরে চালুর জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সোমবার এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর, টেস্ট রান এবং পরবর্তী মূল্যায়নের পর ধাপে ধাপে টার্মিনালটি চালু করা হবে।
চেয়ারম্যান জানান, জাপানের সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনার সম্ভাব্য চুক্তি সম্পূর্ণ ন্যায্য ও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে করা হবে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার পর চুক্তি সই হতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬ মাস থেকে এক বছরের টেস্ট রান পরিচালনা করা হবে। টেস্ট রান শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।
বিমানবন্দর শিফটিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে তাড়াহুড়া না করে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেবিচক। চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের স্থানান্তরের প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা দেয়। এ কারণেই সতর্কতামূলক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন টার্মিনাল চালু না হওয়ায় স্থাপিত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পালন করছে। এটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত রাখা সম্ভব এবং প্রয়োজনে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া, আইকাও অডিটের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সর্বশেষ অডিট হয়েছিল ২০১৮ সালে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের অডিট স্থগিত হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে অডিট টিম আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সম্পন্ন হতে পারে।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা পেয়েছে বেবিচক। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে ইতোমধ্যে সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের সদস্যরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।


